Monday, November 28, 2011

ভালবাসাই আসমা'র মুক্তির পথ


পিচ্চি একটা মেয়ে এসে বলে গেল, “আফনেরে মাসি ডাকে। বিরক্তিতে মনটা ভরে গেল আসমা বেগমের। এই ঘরের মাসিটা এতো খাচ্চর! একশ বার তাকে বলা হয়েছে যে এখন আসমা কোন কাস্টমার নিতে পারবে না তবুও ডাকে। এতো টাকার খাই বুড়িটার!


আসমা বেগম, বয়স একুশ খারাপ পাড়ার বাসিন্দা। ভদ্রলোকরা যাকে বলে পতিতালয়। পতিতালয়- যেখানে পতিতারা থাকে। আসমা বেগম সমাজের চোখে পতিতা। শব্দটা মনে মনে একবার উচ্চারণ করে আসমা। যাদের কারণে সে আজ এখানে, তাদের তো কেউ পতিত বলে না। ষোল বছর বয়সে এখানে প্রথম আসে আসমা। প্রথম প্রথম কাঁদলেও এখন আর কাঁদে না সে। এই জীবনকে মেনে নিয়েছে। প্রতিদিন কিছু শরীরলোভী মানুষ আসবে তার কাছে। নিতান্তই ভালোবাসাহীন কিছু দৈহিক সম্ভোগের পর কটা টাকা ফেলে তারা চলে যাবে- এটাকেই নিয়ম ভেবে দিন কাটাচ্ছিল আসমা।


নিয়মের হেরফের হয় মাস তিনেক আগে। আজকের মত সেদিনও মাসি ডেকেছিল। কোনরকমে শাড়িটা গায়ে জড়িয়ে আসমা যায়। দেখে মাসির সামনে দাঁড়িয়ে আছে বাচ্চা চেহারার একটা ছেলে। বুড়িটা বলে, “যাও এরে ঘরে নিয়া যাও। ভালো কইরা যত্ন কইরো আসমা তাকায় ছেলেটার দিকে। সাদামাটা কম বয়সী একটা ছেলে। বয়স আর কত হবে, এই ২৫/২৬। অনেকেই আসে। আসমা আসেনবলে ঘরের দিকে আসা শুরু করে। পেছন পেছন সঙ্কুচিতভাবে ছেলেটা এসেছিল। ঘরে এসে আসমা ঘুরে দাঁড়ায়। ছেলেটা জবুথুবু হয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়েছিল। বোঝাই যায় এই প্রথমবার এপাড়ায় আসা। আসমা তার চিরাচরিত ভাষায় বলেছিল, “কি গো নাগর! ভয় পাইতাসো কেন? ভয়ের কিসু নাই। আসো কাসে আসো!ছেলেটা কয়েক পা এগিয়ে বিছানায় এসে বসে।
-        কি করবা নাগর? বুক দেখবা? ব্লাউজ খুলবো?